অটিজম কেন হয় অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি

 

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  এটা বর্তমান সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন । বর্তমানে হরহামেশা আমাদের আশেপাশে অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  বা অটিস্টিক সম্বন্ধে শোনা যায় । চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অটিজম হচ্ছে স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার [ এ এস ডি ] একটি জটিল মানসিক রোগ। 

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  সাধারণত শিশুর মনের বিকাশ জনিত সমস্যা থেকে চিহ্নিত হয় অটিজম রোগটি , শিশুর দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই আক্রান্ত শিশুর মধ্যে লক্ষণ গুলো দেখা যায়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক সমস্যার একটি রোগ । অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  এই রোগটি সম্বন্ধে ডাক্তারদের মতামত অটিজম রোগটি শুরু থেকে সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে করা সম্ভব।

পোস্ট সূচিপত্রঃ অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক অটিজম রোগটি হচ্ছে মানসিক সামাজিক এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কতা অটিজম বা অটিস্টিক শব্দটার সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত প্রায় বিষয়টি সম্পর্কে শোনা যায় বা অটিস্টিক রোগী দেখা যায় । আমরা যারা অটিজম বা অটিস্টিক রোগটি সম্পর্কে জানি না তাদের জন্য আজ এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব অটিজম কেন হয় অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি অটিজম কত প্রকার এবং অটিজম শিশুদের চিকিৎসা পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে আরো বিস্তারিত এই বিষয়গুলো জানার জন্য আপনি মনোযোগ সহকারী আর্টিকেলটি পড়ুন।

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি

অটিজম কেন হয়

অটিজম কেন হয় অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি এটা বর্তমান সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন । চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অটিজম হচ্ছে স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার [ এ এস ডি ] একটি জটিল মানসিক রোগ। অটিজম রোগীদের মানসিক ও সামাজিক বিকলতা, বাক প্রতিবন্ধী কতা একই আচরণ বারবার পুনরাবৃত্তি ইত্যাদি থেকে বোঝা যায়। মস্তিষ্কের জটিল ধরনের রোগ এটি, এই রোগটি সাধারণত শিশুকাল থেকে শুরু হয় । 

আরো পড়ুনঃ ডিপ্রেশন কেন হয় ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

গবেষকদের মতে অটিজম রোগটি হচ্ছে মানসিক বিকাশ জনিত একটি রোগ, এই রোগটি সাধারণত শিশুর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে লক্ষ্য করা যাই , আমাদের বাংলাদেশে প্রতিবছর দুই এপ্রিল অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয় , অটিজম রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই দিবসটি পালন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে অটিজম রোগের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অটিজম রোগ হওয়ার পেছনে কিছু কিছু বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা ।

  • বংশগত দিক দিয়ে। বংশে যদি কারো অটিজম থেকে থাকে সেই থেকে অটিজম হতে পারে
  • মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া-কলাপ এর কারণে অটিজম হতে পারে
  • জিন অথবা ক্রমগত অস্বাভাবিকতার কারণেও অটিজম হতে পারে
  • বেশি বয়সে বাচ্চা নেওয়া ও অটিজমের কারণ হতে পারে 
  • শরীরের জটিল কোন রোগ থেকে ইনফেকশনের মাধ্যমে ও অটিজম হতে পারে
  • দূষিত খাবার, পরিবেশ দূষিত হওয়া এবং রাসায়নিক মিশ্রিত খাবারগুলো থেকেও অটিজম হতে পারে
  • গর্ভবতী অবস্থায় মানসিক দুশ্চিন্তা করা ঠিকমতো ঘুম না হওয়া থেকেও অটিজম হতে পারে
  • গর্ভবতী মায়ের ধূমপান করা মাদক সেবন করা এসব বিষয়গুলো থেকে ও অটিজম হতে পারে
  • শিশু জন্ম নেওয়ার পর শিশুর অস্বাভাবিক কম বা অস্বাভাবিক বেশি ওজন এর কারনেও অটিজম হতে পারে
  • গর্ভবতী অবস্থায় বিষাক্ত রাসায়নিক বাতাস নিঃশ্বাস এর মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও পেটে থাকা শিশুর অপুষ্টির কারণ এ ও অটিজম হতে পারে

অটিজম কত প্রকার

অটিজম রোগটি হচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধীর একটি ধরন বা মস্তিষ্কের বিকাশ জনিত কারণ, এটি শিশু জন্ম হওয়ার পর শিশুর মা বাবা ও ঠিকমতো বুঝতে পারে না , ডাক্তার ও শিশু বেলায় রোগটি নির্ণয় করতে পারে না , শিশু ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং এই রোগটির লক্ষণগুলো আক্রান্ত শিশুর মধ্যে ধীরে ধীরে লক্ষ্য করা যায়।

আরো পড়ুনঃ অতিরিক্ত খাবার খেলে কি হয় বেশি খেয়ে ফেললে কি করা উচিত

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে অটিজম রোগটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • পেরভাসিভ ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার।পেরভাসিভ ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণ কোন মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে ভয় পায় ভাষা এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকতা দেখা দেয় এবং মানুষের সাথে স্বাভাবিক আচরণ ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
  • এসপারজার সিনড্রোম। এসপারজার সিনড্রোম এ আক্রান্ত রোগীরা যে কোন বিষয়ের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাই সামাজিক বিষয়গুলো ভয় পায় সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন বা সুসম্পর্ক করতে ভয় পায় ভাষা এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কতা এই রোগে তেমন একটা হয় না।
  • অটিস্টিক ডিজিঅর্ডার। অটিস্টিক ডিজ অর্ডার এ আক্রান্ত শিশুদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কতা বেশি দেখা যায়, এই ধরনের রোগীরা সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলতে এবং সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে ভয় পাই সেই সাথে তাদের আচরণ এর পরিবর্তন ঘটে ঘন ঘন।


অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি

অটিজম রোগটি হচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধী কতা বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকতা এবং ভাষাগত দিক দিয়ে প্রতিবন্ধী কতা ইত্যাদি। অটিজম রোগটি সাধারণত আড়াই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই লক্ষ্য করা যায়। অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি । নিম্নে অটিজম রোগের লক্ষণগুলো দেওয়া হল

  • ১৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে কোন শব্দ বা কথা বলতে না পারা
  • ২০ থেকে ২৪ মাস বয়সের মধ্যে অনর্গল কথা না বলা বা কিছু বুঝতে না পারা
  • ঠিকমতো ভাষার ব্যবহার করতে না পারা
  • ঠিকমত কথা না বলা বা কথার জড়তা
  • ধৈর্য শক্তি কম হওয়া
  • অসামাজিক আচরণ করতে থাকা
  • অস্বাভাবিক আচরণ করা
  • চোখে চোখ না রেখে কথা বলা বা তাকানো
  • স্বাভাবিক কোনো বিষয়কে অস্বাভাবিক করে তোলা
  • অতিরিক্ত চঞ্চলতা
  • অতিরিক্ত জেদ এবং কথায় কথায় আক্রমণাত্মক আচরণ করা
  • বুদ্ধিহীনতা বা স্বল্প বুদ্ধি হওয়া
  • শিশুর নাম ধরে ডাকলে কোন উত্তর না দেওয়া
  • সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে না পারা
  • হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া বা রেগে যাওয়া
  • যে কোন বিষয় বারবার রিপিট করা
  • পছন্দ বা অপছন্দের বিষয় গুলো বলতে না পারা
  • বেশি শব্দ এবং বেশি আলো ইত্যাদি বিষয়গুলোতে প্রতিক্রিয়া করা
  • নিজের ক্ষতি করা এবং নিজেকে বারবার আঘাত প্রাপ্ত করা
  • খিচুনি হওয়া বা মৃগী রোগ হওয়া
  • পরিবেশ অনুযায়ী মুখের এক্সপ্রেশন পরিবর্তন না করা
  • স্বাভাবিক আচরণ করতে না পারা ইত্যাদি

অটিজম শিশুদের চিকিৎসা পদ্ধতি

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি, আশা করছি উপরের আর্টিকেল গুলো পড়ে আপনি নিশ্চয়ই সেগুলো সম্বন্ধে জানতে পেরেছেন। আপনি যদি শিশুর মধ্যে অটিজমের লক্ষণ গুলো দেখতে পান তাহলে যত দ্রুত সম্ভব মনোবিদ বা মানসিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিন, গবেষণায় দেখা গেছে লক্ষণ গুলো দেখার সাথে সাথেই আপনি যদি শুরু থেকেই চিকিৎসা শুরু করতে পারেন তাহলে অটিজম রোগটি অনেকটাই ভালো করা সম্ভব। 

আরো পড়ুনঃ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় জানুন

অনেক অভিভাবক কি আছেন যারা অটিস্টিক শিশুর চিকিৎসা প্রদানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সাধারণ চিকিৎসা আর ওষুধ খাওয়ানোতে অটিজম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, সঠিকভাবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে অটিজম রোগীর চিকিৎসা করালে অটিজম শিশুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যত তাড়াতাড়ি আপনি অটিজমের লক্ষ্যন গুলো উপলব্ধি করবেন এবং চিকিৎসা শুরু করবেন ততই অটোস্টিক শিশুর জন্য ভালো।

অটিস্টিক শিশুদেরকে সাইকো থেরাপির মাধ্যমে এবং স্পেশাল শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ৭৫ থেকে ৮৫ ভাগ ও ডিসটিক রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয় সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এবং সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর উন্নতি করতে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও হয়ে যায় অটিস্টিক রোগী, তাই অটিস্টিক রোগীর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই।

অটিস্টিক শিশুর সাথে কেমন আচরণ করবেন

অটিজম রোগটি হচ্ছে মস্তিষ্কের বিকাশ জনিত সমস্যা, অটিজম শিশুদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কথা ভাষা প্রতিবন্ধী কথা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধীকতা দেখা যায়। অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুরা শুধুমাত্র নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে তারা সামাজিক যোগাযোগ কথা বলা কোন কিছু শেখার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকে ।

সেজন্য একটি অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুর সাথে পরিবারের সদস্যদের বা মা-বাবার যেমন আচরণ হওয়া উচিত তা নিম্নে দেওয়া হল।

  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুকে সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন তার সাথে কথা বলুন তাকে সব সময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করুন
  • শিশুর রোগের বিষয়টি সহজে মেনে নিয়ে শিশুটির সাথে ধৈর্যশীল এবং আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন
  • সে যেটা করতে পছন্দ করে সেই বিষয়টি করতে তাকে সাহায্য করুন এবং তাকে সেই কাজটি করার জন্য উৎসাহিত করুন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুটির সাথে সব সময় ভালো সম্পর্ক এবং সুসম্পর্ক তৈরি করুন তার সাথে বেশি বেশি কথা বলার চেষ্টা করুন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুর পড়ালেখার বা কোন কিছু শেখার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন ভালো কিছু শিখতে উৎসাহিত করুন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুকে সহজ ভাষা সহজ নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা দিন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুটি যেটা পছন্দ করে এবং তার দৈনন্দিন কাজগুলো করতে শিশুটিকে সাহায্য করুন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুটিকে যেকোনো ধরনের কাজ করতে উৎসাহিত করুন
  • কোন কাজ করে সে যদি সফল হয় এবং খুশি হয় তাকে সেই বিষয়ে উৎসাহিত করুন
  • অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুকে অবহেলা করা থেকে বিরত থাকুন তাকে ভালবাসেন আদর করুন।

অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  শেষ কথা

প্রিয় পাঠক উপরের আর্টিকেলটি থেকে আজ আমরা জানতে পারলাম অটিজম কেন হয়  অটিজমের লক্ষণ গুলো কি কি  অটিজম কত প্রকার এবং অটিজমের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে বিস্তারিত। আশা করছি অটিজম সম্বন্ধে আপনি উপরের আর্টিকেলটি থেকে বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন , যদি অটিজম সম্বন্ধে আপনি না জানেন তাহলে উপরের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এরকম আরো পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন ধন্যবাদ।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url