ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার বিস্তারিত জানুন

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার সম্পর্কে প্রিয় পাঠক আজ আমরা আলোচনা করব। ক্যান্সার ভয়ঙ্কর রোগ বা মরণব্যাধি হিসেবে আমাদের সমাজে বেশি পরিচিত , কিন্তু সঠিক নিয়ম এবং প্রাকৃতিক কিছু পরিচর্যা এবং খাবারের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং নিরাময় করা সম্ভব , তাই আজ আমাদের আলোচিত বিষয় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার এই ব্যাপারে । সুতরাং আজকের আর্টিকেলটি না টেনে মনোযোগ সহকারে পড়ুন তাহলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার বিস্তারিত জানুন
ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন ধারার বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা আপনাদের জানাবো কিছু খাদ্য ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার তালিকা সম্পর্কে , যে খাবারগুলো ক্যান্সার এর জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং ক্যান্সারে প্রতিরোধে কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চলুন তাহলে দেখি না করে জেনে নেওয়া যাক

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার ভূমিকা

প্রতিবছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ক্যান্সার দিবস বা বিশ্ব ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির দিবস হিসেবে পরিচিত। পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৯ পয়েন্ট ৫ মিলিয়ন মানুষ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়েএই দিবসটি পালন করে থাকেন। 
সেখানে তারা বিভিন্ন খাদ্য এবং খাবারের মাধ্যমে কিভাবে এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব সে সম্পর্কে জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন সেমিনার এবং প্রচার-প্রচারণা করে থাকে। আজ আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার এর ব্যাপারে বিস্তারিত , সেজন্য আজকের পোস্টটি না টেনে মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো । এই খাবারগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন।

লেবুঃ 

বিভিন্ন ধরনের লেবু যেমন কাঁদজি লেবু , বাতাবি লেবু , কমলা লেবু ইত্যাদি ধরনের লেবু আমাদের প্রত্যেকের শরীরের এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। এগুলোতে রয়েছে ফাইটিক এসিড এবং শাপোনিনের মতো ফাইটো কেমিক্যাল , যেগুলি ক্যান্সারের কোষ প্রজনন করতে বাধাগ্রস্থ করে । এবং পাকস্থলী পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । 
তাই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে বা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনি আপনাদের নিয়মিত খাবারের মেনুতে অবশ্যই লেবু অন্তর্ভুক্ত করুন।

ব্রুকলিঃ 

ব্রকলি তে থাকা সালফরাফেন নামক একটি উপাদান রয়েছে , যেগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছু গবেষক দল গবেষণা করার পর থেকে , চিকিৎসকগণ ক্যান্সার এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ব্রকলি এবং কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । 
যেগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে । সুতরাং আপনি আপনার নিয়মিত খাবার তালিকায় প্রক্রি জাতীয় খাবার অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন।

বেরিঃ 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে , বেরি র ভিতরে থাকা উপাদান গুলো , ক্যান্সারের সাথে থাকা ক্ষতিকর কোষগুলো কে , আপনার শরীরে ক্ষতি করার আগে থেকে সেগুলোকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। বেরিতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনাল থাকে , যেমন ইলাজিক অ্যাসিড এবং অ্যান্থোসায়ানিন যেগুলো ক্যান্সারে থাকা ক্ষতিকর কোষ গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে , 
আপনি আপনার নিয়মিত খাবার তালিকায় বেরি জাতীয় খাবার যেমন ব্লুবেরি , স্ট্রবেরি ইত্যাদি বেরি জাতীয় খাবার গুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

গাজরঃ 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণার বেরিয়ে এসেছে গাজোরে থাকা উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের প্রায় পাঁচটি গবেষণার পর তারা একটি বিষয়ে একমত পোষণ করেছে যে গাজরে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার কমানোর জন্য ২৬ শতাংশ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি ক্যান্সার প্রতিরোধে বা ক্যান্সার ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়মিত গাজর খান বা আপনার নিয়মিত খাবার রুটিনে গাজর অন্তর্ভুক্ত করুন।

সবুজ শাকঃ 

পাতাযুক্ত সবুজ শাক যেগুলি , যেমন সবুজ শাক , পালং শাক , সরিষা শাক , লেটুসপাতা ইত্যাদি । এই সবুজ শাক এ ফলেট এবং ক্যারোটিনয়েড এর মত উপাদান মজুদ রয়েছে। এই উপাদানগুলি মানুষের শরীরের ডিএনএ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  
ফলেটে থাকা উপাদান গুলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে , এবং ক্যারোটিনয়েড এ থাকা উপাদানগুলি ক্যান্সারের কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে । তাই ক্যান্সার প্রতিরোধে আপনার নিয়মিত খাবার তালিকায় সবুজ শাকগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

রসুনঃ 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় রসুন খাওয়ার ফলে নির্দিষ্ট ধরনের একটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য হারে সাহায্য করে। রসুনে থাকা এলেসিন নামক একটি উপাদান রয়েছে যেটি ক্যান্সারের বিভিন্ন সক্রিয় কোষগুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা অবশ্যই রসুন অন্তর্ভুক্ত করুন , যেটি আপনার ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিলের বীজ শন বীজঃ 

নিয়মিত তিলের বীজ শন বীজ খাওয়ার ফলে তিলের বীজ এ থাকা উপাদান কোলন ক্যান্সার , স্কিন ক্যান্সার , এবং স্তন ক্যান্সার এর বিরুদ্ধে লড়াই করে ,তিলের বীজ শন বীজ এ থাকা লিগনান নামক একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট যা অনেকগুলি কার্সিনোজেন শরীর থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে । 
যেটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে , তিলের বীজ শন বীজ এ ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আপনি ক্যান্সার এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত সালাতে এবং খাবারে তিলের বীজ শন বীজ খেতে পারেন।

হলুদঃ  

হলুদ প্রাচীন কাল থেকে ঔষধি গুণাবলীর জন্য অত্যন্ত পরিচিত । হলুদে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান রয়েছে যেই উপাদানগুলো ক্যান্সারের এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ এ ব্যাপকভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে , এই বিশেষ রাসায়নিক উপাদানটি ফুসফুস ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের কোষ গুলোর বৃদ্ধি ঠেকাতে সাহায্য করে। সুতরাং আপনি প্রত্যেক খাবারে নিয়মিত খাবারের কালারের পাশাপাশি মসলা হিসাবে ব্যবহার করুন।

টমেটোঃ 

টমেটোতে থাকা উপাদান গুলো , একাধিক ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। টমেটো তারা লাইকোপিন থেকে তাদের লাল রং গ্রহণ করে যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , যেগুলো ক্যান্সারের কোষ গুলোর ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে। 
এছাড়াও টমেটো তো থাকা উপাদান ইউ ভি আলো শোষণ করে যা আপনার ত্বককে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টমেটো যে কোনভাবে খেতে পারেন ,সেটি জুস , সস ইত্যাদি যেকোন উপায় হোক না কেন।

দারুচিনিঃ 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে দারুচিনিতে থাকা উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । দারুচিনিতে থাকা গন্ধ টিউমার কোষের মৃত্যু ঘটাতে সাহায্য করে এবং টিউমারের বৃদ্ধি ও বিস্তার এ বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিদিন আপনার খাবারের সঙ্গে অন্ততপক্ষে চার গ্রাম দারুচিনি অন্তর্ভুক্ত করুন , যেটি আপনার ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করবে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার শেষ কথা

পরিশেষে বলতে গেলে আমরা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার এর সম্পর্কে বিস্তারিত উপরের আর্টিকেলটি পড়ে জানতে পারলাম , ক্যান্সার একটি ভয়ঙ্কর রোগ এই ধারণাটি নিতান্তই ভুল , আমরা ক্যান্সার নাম শুনেই আগে ভেঙে পরি অর্ধেক কিন্তু প্রাকৃতিক কিছু নিয়ম এবং সবকিছু খাবারের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই ক্যান্সার নিরাময় করতে পারি। 
আশা করছি উপরে আর্টিকেলটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেই ১০টি খাবার এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন , আশা করছি আপনি উপরে দেওয়া দশটি খাবার গুলো নিয়মিত খেলে আপনার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করবে । এরকম তথ্য বহুল পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url