মুখের ঘা কেন হয় মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায়

 

মুখ হচ্ছে আমাদের শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা অত্যন্ত জরুরী, আপনি ভাবুন মুখ না থাকলে আমাদের কি অবস্থা হতো সেই মুখে যদি ঘা হয় তাহলে সেটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয় মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় কি, মুখের ঘা সাধারণত ভিটামিনের ঘাটতি থেকে হতে পারে। মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো সম্বন্ধে আজ আমরা জানবো

মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায়

মুখের ঘা হলে অবহেলা করা উচিত নয় ভিটামিনের অভাব থেকে মুখের ঘা হতে পারে এমনকি মুখের ঘা থেকে ক্যান্সারের লক্ষণ কিন্তু হতে পারে বা মুখের আলসারের সমস্যা ও হতে পারে আজ আমরা মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা দরকার ,তাই মুখের ঘা অবহেলা না করে সঠিকভাবে পরিচর্যা করুন।

পোস্ট সূচীপত্রঃ মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় 

ভুমিকা

প্রিয় পাঠক আজকে জানাবো আপনাদেরকেমুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় , মুখের ঘা এর ব্যাপারে, মুখের ঘা খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটা অসুখ যা ভিটামিনের ঘাটতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে হতে পারে এমনকি মুখের ঘা থেকে আপনার ক্যান্সারের লক্ষণ কিংবা মুখের ঘা মুখের আলসারের লক্ষণ ও হতে পারে। আজ এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় ইত্যাদি সম্বন্ধে বিস্তারিত আশা করছি পুরো আর্টিকেলটি পড়বেন।

শুরুতেই আপনি দেখতে পাবেন সূচিপত্র , সূঁচিপত্রে অনেকগুলো প্রশ্ন দেওয়া আছে আপনি ইচ্ছা করলেই  যেই প্রশ্নটি খুঁজছেন সেটিতে ক্লিক করলেই আপনার প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি আপনাকে নিয়ে যাবে এবং আপনি সেটি পড়লে আপনার কাঙ্খিত উত্তরটি পেয়ে যাবেন।

মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় 

মুখের ঘা কেন হয়

মুখ আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ মুখে ঘা অনেক কারণে হয় যেমন ভিটামিনের ঘাটতি থেকে , আপনি কিছু খাচ্ছেন হঠাৎ আপনার মুখে কামড় লাগার কারণ থেকেও আপনার মুখে ঘা হতে পারে ব্রাশ করার সময় অসাবধানতাবশত ব্রাশের আঘাতেও মুখে ঘা হতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ মাথা ব্যাথার কারণ ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় 

শক্ত কিছু খাওয়ার সময়ই হঠাৎ খাবারের ঘর্ষণ থেকেও ঘা হতে পারে , আমরা কিছু খাওয়ার পরে দাঁতে কিছু আটকে গেলে আমরা দাঁত খিলাল করি সেটা থেকেও আঘাত লেগে আপনার মুখে ঘা হতে পারে , অনেক সময় ঘুমের অভাবে ও মানসিক চাপ এর কারণে ও মুখে ঘা বা  মাউথ আলসার হতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই মুখের ঘা হওয়ার জন্য, এরপরও কিছু জিনিস থাকে বা কিছু বিষয় থাকে যেগুলোর কারণে আপনার মুখে ঘা হতে পারে যেমন শরীরের কিছু ঘাটতির ফলে আপনার মুখে ঘা হতে পারে , আয়রনের ঘাটতির কারণে ও মুখে ঘা হতে পারে কিছু কিছু রোগের কারণেও ঘা হতে পারে যেমন ডায়াবেটিক মেলাইটাস যাদের আছে তাদের মুখে ঘা হতে পারে , মুখের কোন দাঁতের যদি ভাঙ্গা অংশ থাকে তাহলে সেই ভাঙ্গা অংশের ঘর্ষণ লেগেও আপনার মুখে ঘা হতে পারে।

মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায়

মুখের ঘা অনেক যন্ত্রণাদায়ক মুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় , আজ আপনাদের জানাবো ঘরোয়া উপায় কিভাবে মুখের ঘা থেকে মুক্তি পাবেন ।

  • আমরা অনেকেই জানিনা টি ব্যাগ দ্রুত ব্যথা বা জ্বালাপোড়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী একটি জিনিস বা উপাদান ঠান্ডা পানিতে আপনি একটি টি ব্যাগ ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর সেটিকে আপনার মুখের ঘা এর জায়গায় ব্যবহার করুন তাতে আপনার মুখের ঘা এর ব্যথা এবং মুখের ক্ষত থেকে খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি দিবে।
  • যষ্টিমধুর নাম আমরা অনেকেই শুনেছি যস্টি মধু মুখের ব্যথা কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি জিনিস দুই কাপ পানিতে আপনি এক কাপ যষ্টিমধু ভিজিয়ে নিয়ে তারপর এই যষ্টিমধু ভেজানো পানি দিয়ে আপনি দিনে তিন থেকে চার বার কুলি করুন এতে করে আপনার মুখের দ্রুত ব্যথা কমে যাবে।
  • আমরা জানি এলোভেরা অনেক কাজে লাগে এলোভেরা মুখের ঘা বা আলসার দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান মুখের ঘা কমানোর জন্য আপনি সারা দিনে দুই থেকে তিনবার এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনার মুখের ঘা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।
  • লবণ পানি দিয়ে মুখের ঘা সারানো দুর্দান্ত একটি উপায় সারাদিনে আপনি চার থেকে পাঁচ বার লবণাক্ত পানি মুখে নিয়ে কুলকুচি করবেন এতে করে আপনার মুখের জীবাণু ব্যাকটেরিয়া দুর্গন্ধ ঘা ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাবেন খুব সহজেই।

মুখ গহ্বরের সমস্যা

মুখ গহ্বরের ঘা বলতে আমরা মুখের ভেতরের অংশের ঘা কে বোঝাই যেমন জিব্বার নিচে গালের ভেতরে দুই সাইডে নরম তালুতে এবং আরো মুখের ভেতরের অন্যান্য অংশের ঘা কে আমরা মুখ গহ্বরের ঘা বলি , মুখের ভেতরের অংশের ঘা এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাপথাস স্টোমাটাইটিস। 

মুখ গব্বরের ঘা সাধারণত এগুলো ঠোঁটের উপরে বা আশেপাশে হয় না এগুলো খুব একটা ক্ষতিকর ও না তবে এগুলো খুব অসস্তিদায়ক এবং খুব যন্ত্রণাদায়ক মুখ গব্বরের ঘা হলে কথা বলতে এবং কিছু খেতে আপনার খুব অসুবিধা হবে। এক বা দুই সপ্তাহর মধ্যে মুখ গব্বরের ঘা ঠিক হয়ে যায় আর যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘা ঠিক না হয় তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে মুখ গব্বরের ঘা টি অতিরিক্ত অস্বাভাবিক আকারের বা খারাপ কিছু হচ্ছে সেই ক্ষেত্রে আপনি যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।

মুখের ভিতরে সাদা ঘা কেন হয়

মুখের ঘা কোনোটিই ভালো নয় মুখের ভিতরে নানা রকম ঘা হয়ে থাকে তার মধ্যে মুখের ভিতরে ছোট ছোট সাদা দাগের মতো ঘা এটি জিব্বা বা মুখের নিচের অংশে হয়ে থাকে চিকিৎসা বৈজ্ঞানিক দের মতে এই দাঁতকে বলা হয় লিউকো প্লাকিয়া নিউকোপ্লাকিয়া ঘাঁ টি ঠিকমত চিকিৎসা না করালে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে গালের ভিতরের অংশে আক্রমণ করতে পারে এমনকি নিউকোপ্লাকিয়া ঘা টি ক্যান্সারে পর্যন্ত পরিণত হতে পারে সেজন্য আপনাকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে নিউকোপ্লাকিয়া ঘা হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। 

 যেমন ধূমপান, মুখে নিউকোপ্লাকিয়া ঘা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ধূমপান করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের মুখে এরকম সাদা ছোপ ছোপ দাগ বা ঘা দেখা যায় সেহেতু ধূমপানকারীদের এই ঘা হতে পারে ।মাদক ব্যবহার বা যেকোনো ভাবে তামাক সেবনকারী মুখের এই সাদা ছোপ ছোপ দাগ এর বা ঘা এর শিকার হতে পারেন। মাড়িতে বা দাঁতে ঘন ঘন ফিলিংস করালে করালে আপনার এই ঘাটি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  এইচ আই ভি এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ও মুখের সাদা সাদা ছোপ ছোপ ঘা  হয়।

বাচ্চাদের মুখের ভিতর সাদা ঘা কেন হয়

  • ইদানিং সময় লক্ষ্য করা যায় ছোট বাচ্চাদের মুখে বারবার ঘা হয় বাচ্চাদের মুখে ঘা হওয়ার বিভিন্ন রকম কারণ হয়ে থাকে যেমন জাঙ্ক ফুড বা মসলা জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেলে আপনার সন্তানদের মুখে ঘা হতে পারে তাই মসলা জাতীয় খাবার না দিয়ে পুষ্টি জাতীয় খাবার যেটাতে মসলা কম থাকে বা না থাকে সেই খাবারগুলো আপনার বাচ্চাকে নিয়মিত খেতে দিন জাঙ্ক ফুড মসলা জাতীয় খাবার থেকে বিরত রাখুন। 
  • বাচ্চাদেরকে চিন্তিত বা অবসাদযুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন এবং উৎসাহিত করুন যেন ছোট কোন বিষয়ে পড়ালেখার বিষয়ে বা নানান কোন বিষয়ে চিন্তিত না হয়ে পড়ে তাদের বোঝান । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে চিন্তিত বা অবসাদ যুক্ত থাকার কারণে বাচ্চাদের নানান সময় বিভিন্ন রকম ঘা হয়।
  • আপনি খেয়াল রাখবেন বাচ্চারা যেন মুখে আজেবাজে জিনিস বা নোংরা জিনিস ঢুকিয়ে না ফেলে অনেক সময় বাচ্চারা আজেবাজে জিনিস মুখে নিয়ে ফেলে যার কারণে তাদের মুখে বিভিন্ন রকম জীবন ও প্রবেশ করে এবং তা থেকে ও ঘা হয় এছাড়াও বাচ্চারা বিভিন্ন নোংরা জিনিস হাত দিয়ে ধরে এবং পরবর্তীতে হাত মুখে দেয় সে থেকেই বিভিন্ন জীবাণুর মুখের ভিতর প্রবেশ করে সেই জীবাণু থেকে ও ঘা এর সৃষ্টি হয়

বাচ্চাদের মুখের ভিতর ঘা হলে করণীয়

  • ভিটামিন এর অভাবে ও বাচ্চাদের মুখে ঘা হয় বাচ্চাদের খাবারের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বা খনিজ পদার্থ না থাকলে বা ঠিকমতো পুষ্টি জাতীয় খাবার না গ্রহণ করলে বাচ্চাদের মুখে ঘা এর সৃষ্টি হয় তাই খেয়াল রাখবেন বাচ্চাদেরকে সবসময়ই প্রোটিন জাতীয় বা খনিজ পদার্থ জাতীয় খাবার খাওয়াবেন।
  • বাচ্চাদেরকে মধু খাওয়ান মধু বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি জিনিস মধু বাচ্চাদের মুখের জীবানু গুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে এই জন্য আপনি তিন বছর বয়সী পর্যন্ত বাচ্চাদের মুখে ঘা হলে মধু খাওয়ানো সবচেয়ে নিরাপদ একটি ঔষধ হিসেবে কাজ করবে।
আরো পড়ুনঃঃ জ্বর কেন হয় জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় 
  • নারিকেল তেল বা নারিকেলের দুধ নারিকেল এর দুধ দিয়ে কুলি কুচি করলে বাচ্চাদের মুখের ঘা এর ব্যথা এবং জলা কমে যায় আর নারকেল তেল হচ্ছে আপনি বাচ্চার মুখের ঘায়ের জায়গা গুলোতে ব্যবহার করতে পারেন না
  • শিশুর মুখে হাওয়া ঘা সারাতে ঘি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ভূমিকা পালন করে , শিশুর মুখে ঘা ভালো করতে এবং ভালো ফলাফল পেতে শিশুর মুখের ঘা এর স্থানগুলো দিনে অত্যন্ত দুই থেকে চার বার করে ঘি ব্যবহার করুন ঘি শিশুর মুখের ঘা দ্রুত সারাতে  কার্যকর একটি উপাদান

লেখকের শেষ কথা

প্রিয় পাঠকগণ আশা করছি সকলেই ভালো আছেন আজকে আমরা উপরের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছিমুখের ঘা কেন হয়  মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় , বাচ্চার মুখে ঘা কেন হয়, মুখে ঘন ঘন ঘা কেন হয় , ঘা হলে করণীয় কি, কোন ভিটামিনের অভাবে ঘা হয, মুখে ঘা হলে কি করবেন মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া উপায় ইত্যাদি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

আশা করছি আপনি উপরের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন এবং আপনার সমস্যাগুলোর সমাধান পেয়েছেন যদি আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে না থাকেন তাহলে এখনই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন , এবং বিস্তারিত জেনে নিন এরকম আরো তথ্যবহুল পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন ধন্যবাদ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url